গৌরীপুরের লালখান উচ্চ বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ
- আপডেট সময় : ০৩:৩৭:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে
মোখলেছুর রহমান, গৌরীপুর প্রতিদিন ঃ ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার রামগোপালপুর ইউনিয়নের লাল খান উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত রেজিস্ট্রেশন ফি আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষার্থীদের কোনো প্রকার রসিদ বা ভাউচার না দিয়েই নির্ধারিত ফি’র চেয়ে কয়েকগুণ বেশি অর্থ নেওয়ায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি/২৬) সকালে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, রেজিস্ট্রেশন ফি বাবদ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। তবে টাকা নেওয়ার বিপরীতে কোনো দাপ্তরিক রসিদ দেওয়া হচ্ছে না, বরং সাদা কাগজে টাকার অঙ্ক লিখে রাখা হচ্ছে। এই ঘটনায় অনেক অভিভাবক প্রতিবাদ জানিয়ে ফি না দিয়েই বিদ্যালয় ত্যাগ করেন।
৬ষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, “রেজিস্ট্রেশন ফি হিসেবে ৫০০ টাকা দিতে হয়েছে। কিন্তু কোনো রসিদ দেওয়া হয়নি। কেন এত টাকা নেওয়া হচ্ছে, তারও কোনো সদুত্তর নেই।”
একই অভিযোগ করেন আরেক অভিভাবক। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “প্রতিবারই এভাবে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হয়। এর আগে অভিযোগ করেও লাভ হয়নি, তাই বাধ্য হয়ে ৫০০ টাকা দিয়েই মেয়েকে ভর্তি করেছি।”
স্থানীয় বিশ্বনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা শহিদুল্লাহ জানান, এই বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে বই বিক্রির অভিযোগ নিয়েও এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু কোনো বিচার না হওয়ায় বিদ্যালয়ের অনিয়ম এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, রেজিস্ট্রেশন ফি সাধারণত ১৫০ থেকে ২০০ টাকার মধ্যে হওয়ার কথা। এর বেশি নেওয়ার কোনো বিধান নেই। তবে নির্দিষ্ট পরিমাণ কত, তা তিনি তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেননি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের বিষয়টি স্বীকার করেছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মঞ্জুরুল হক। তিনি দাবি করেন, “ভর্তির সময় কোনো টাকা নেওয়া হয়নি, তাই রেজিস্ট্রেশন বাবদ ৫০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে।” তবে দাপ্তরিক ভাউচার ছাড়া কেন টাকা নেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে তিনি কোনো স্পষ্ট জবাব দিতে পারেননি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফিয়া আমিন পাপ্পা এ প্রসঙ্গে বলেন, “রেজিস্ট্রেশন বাবদ ৫০০ টাকা নেওয়ার কোনো বিধান নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখে যদি অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের প্রমাণ পাওয়া যায় তবে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ভুক্তভোগী অভিভাবকদের দাবি, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে অতিরিক্ত নেওয়া অর্থ ফেরত দেওয়া হোক এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক।













